( মিরপুর প্রতিনিধি আব্দুর রহমান)
পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার ১নং চিথলিয়া ইউনিয়ন শাখার ৩, ৪, ৫ ও ৬নং ওয়ার্ডের উদ্যোগে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আয়োজনে এক আলোচনা সভা, ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে প্রধান মেহমান হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মিরপুর উপজেলা শাখা জামায়াতের আমির ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী জনাব, খন্দকার মোঃ রেজাউল করিম, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিতি ছিলেন, ১নং চিথলিয়া ইউনিয়ন জামায়াতের আমির জনান,মোঃ নেছার আহমেদ, এবং সভাপতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ১ নং চিথলিয়া ইউনিয়ন জামায়াতের সহকারি সেক্রেটারি ও চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী জনাব অধ্যাপক মোঃ রিয়াজুল বারী।১৩/০৩/২০২৬ইং (শুক্রবার) চিথলিয়া সাগর আদর্শ ডিগ্রী কলেজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, আলেম-ওলামা, সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুল সংখ্যক মানুষ উপস্থিত ছিলেন।আলোচনা সভায় বক্তারা পবিত্র মাহে রমজানের গুরুত্ব ও তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, রমজান মাস হচ্ছে সংযম, আত্মশুদ্ধি ও তাকওয়া অর্জনের মাস। এই মাসে মুসলমানরা সিয়াম সাধনার মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করেন এবং নিজেদের নৈতিকতা ও চরিত্রকে পরিশুদ্ধ করার সুযোগ পান। রমজান মানুষকে ধৈর্য, সহনশীলতা ও মানবিকতার শিক্ষা দেয়।বক্তারা আরও বলেন, রমজানের মূল শিক্ষা হচ্ছে মানুষকে ন্যায়নীতি, সততা ও মানবিক মূল্যবোধের পথে পরিচালিত করা। সমাজে শান্তি, শৃঙ্খলা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য ইসলামের আদর্শ অনুসরণ করা অত্যন্ত জরুরি। একটি ন্যায়ভিত্তিক ও কল্যাণমুখী সমাজ গঠনের জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে এবং মানুষের কল্যাণে নিজেদেরকে নিয়োজিত করতে হবে।তারা আরো বলেন, ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা মানুষকে পরস্পরের প্রতি সহমর্মী হতে উদ্বুদ্ধ করে। রমজান মাসে ধনী-গরিবের ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে সবাইকে একসাথে বসে ইফতার করার মাধ্যমে ভ্রাতৃত্ববোধ ও সৌহার্দ্য বৃদ্ধি পায়। এই ধরনের আয়োজন সমাজে সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার মনোভাব জাগ্রত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।আলোচনা সভা শেষে উপস্থিত সবার অংশগ্রহণে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। ইফতার পরবর্তী সময়ে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি এবং কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। দোয়ায় দেশের উন্নয়ন, মানুষের সুখ-শান্তি এবং সকল ধরনের অশান্তি ও বিপদ-আপদ থেকে মুক্তির জন্য মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা হয়।ইফতার মাহফিলে এলাকার বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী, সমর্থক, শিক্ষার্থী এবং সাধারণ মুসল্লির উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ পরিবেশের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভবিষ্যতেও এ ধরনের ধর্মীয় ও সামাজিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।